মৃত্যুমুখে ফেসবুকের ক্রিপ্টো মুদ্রা!

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০১:৪৯  
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের বাইরে ই-কমার্স ও বৈশ্বিক পেমেন্ট সিস্টেমে ঢুকতে চেয়েছিলো ফেসবুক। ২০২০ সালের প্রথমার্ধেই তাদের ক্রিপ্টো মুদ্রা লিব্রা বাজারে ছাড়ার কথা ছেলো। এ ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা চালু করতে ২৮টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে গঠন করা হয়েছিলো ‘ক্যালিব্রা’। ঘোষণার দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর বদল করা হয় নাম। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। এবার হয়তো কার্যত এর সময়ও একেবারেই ফুরিয়ে আসছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার তীব্র প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়েছে তাদের ডিজিটাল টোকেন পরিচালনা করার জন্য গঠিত ডিয়েম এসোসিয়েশন। সংস্থাটি এখন নিজ সম্পদ বিক্রির জন্য ক্রেতা খুঁজছে। এনিয়ে প্রযুক্তি পোর্টাল ব্লুমবার্গ এর প্রতিবেদন বলা হয়েছে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সিলভারগেটের উপর চাপ সৃষ্টি করে “উদ্যোগটির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেছে”। ডিজিটাল টোকেন চালুর স্বার্থে ব্যাংকিং অংশীদার হিসেবে গত বছর সিলভারগেটের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করে ফেসবুক। বিষয়টির সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র দাবি করেছে, ফেডারেল রিজার্ভ সিলভারগেটকে হুমকি দিয়ে কার্যত পুরো প্রকল্পকেই হিমঘরে পাঠিয়েছে। ডিয়েম এসোসিয়েশনের একজন মুখপাত্র মাইকেল ক্রিটেনডেন অবশ্য দ্য ভার্জকে বলেছেন, ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে “কিছু তথ্যগত ভুল রয়েছে”। তবে, তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কিংবা বন্ধ হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি উড়িয়েও দেননি। ভার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিয়েম যদি সত্যিই এর সম্পদ বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়ে থাকে, তবে এর মানে হচ্ছে, মেটা’র ক্রিপ্টো মুদ্রার সামনে সম্ভবত আর কোনো পথ খোলা নেই। সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু লক্ষণ বলছে, ডিয়েম হয়তো শেষ পর্যন্ত আর দিনের আলো দেখবে না। কেননা মেটা নামে অভিহিত হওয়ার পর সম্প্রতি মূলত ডাইম মুদ্রার জন্য ডিজিটাল ওয়ালেটও চালু করে। পরে এটি অন্য একটি স্টেবলকয়েনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও লিব্রার পেছনের কারিগর এবং মেটার ডিজিটাল ওয়ালেটের নেতৃত্বদানকারী ডেভিড মার্কাস গত বছরের শেষের দিকে প্রকল্প ছেড়ে চলে গেছেন। আর এরই মধ্যে ওই বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা দলের বেশিরভাগই ডুবন্ত এই জাহাজ থেকে ঝাঁপিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত। এখন শুধু ঘণ্টা বাজানোর অপেক্ষা।